এটি এমন একটি চ্যাপ্টার যেখানে আমি বলতে চাইছি যে সকলে পাপ-পুণ্যের ব্যাপারে অন্তরের কথাতে গুরুত্ব আরোপ করবেন কেননা আমাদের অন্তরের মধ্যে একটি বিশেষ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলেই আমরা সঠিক পথটি বুঝতে পারব। এখন প্রশ্নটা কি? 2.হ্যাঁ প্রশ্ন টি অনেকেই জানেন সকলেই জানেন কিন্তু আমাদের গবেষণা করা প্রয়োজন। প্রশ্নটিই কিছুই না আমাদের মনকে শুধু এই প্রশ্নটা করতে হবে যে আমার আচরণ কি যার বা যাদের প্রতি করছি আমি সে যদি বা তারা যদি আমার প্রতি একই আচরণ করতো তবে কি আমার মঙ্গল হতো নাকি অমঙ্গল হত? 3.ধরুন আপনি কারো টাকা চুরি করতে চাইছেন এখন আপনি প্রশ্ন করুন আপনার টাকা চুরি করলে আপনি কি খুশি হবেন নিশ্চয়ই হবেন না। তাহলে চুরি করা ঈশ্বরের অপছন্দের একটি কাজ অর্থাৎ একটি মহাপাপ। কোন মহাপুরুষ এটিকে পাপ বলল কি না বলল, ঈশ্বর কোন কেতাবে এটি বলে পাঠালো কি না পাঠালো সেটা ভাবার কোন প্রয়োজন নেই।
Category: উপদেশ অধ্যায় ।
তোমরা কি শোননি যেদিন
ঈসা অনেক লোক দেখে পাহাড়ের উপর উঠলেন। তিনি বসলে পর তাঁর সাহাবীরা তাঁর কাছে আসলেন।তখন তিনি সাহাবীদের এই বলে শিক্ষা দিতে লাগলেন:
“ধন্য তারা, যারা দিলে নিজেদের গরীব মনে করে,
কারণ বেহেশতী রাজ্য তাদেরই।
ধন্য তারা, যারা দুঃখ করে,
কারণ তারা সান্ত্বনা পাবে।
ধন্য তারা, যাদের স্বভাব নম্র,
কারণ দুনিয়া তাদেরই হবে।
ধন্য তারা, যারা মনেপ্রাণে আল্লাহ্র ইচ্ছামত চলতে চায়,
কারণ তাদের সেই ইচ্ছা পূর্ণ হবে।
ধন্য তারা, যারা দয়ালু,
কারণ তারা দয়া পাবে।
ধন্য তারা, যাদের দিল খাঁটি,
কারণ তারা আল্লাহ্কে দেখতে পাবে।
ধন্য তারা, যারা লোকদের জীবনে
শান্তি আনবার জন্য পরিশ্রম করে,
কারণ আল্লাহ্ তাদের নিজের সন্তান বলে ডাকবেন।
ধন্য তারা, যারা আল্লাহ্র ইচ্ছামত চলতে গিয়ে
জুলুম সহ্য করে,
কারণ বেহেশতী রাজ্য তাদেরই।
“ধন্য তোমরা, যখন লোকে আমার জন্য তোমাদের অপমান করে ও জুলুম করে এবং মিথ্যা করে তোমাদের নামে সব রকম খারাপ কথা বলে।তোমরা আনন্দ কোরো ও খুশী হোয়ো, কারণ বেহেশতে তোমাদের জন্য মহা পুরস্কার আছে। তোমাদের আগে যে নবীরা ছিলেন লোকে তাঁদেরও এইভাবে জুলুম করত।
ঈমানদারেরা লবণ ও আলোর মত
“তোমরা দুনিয়ার লবণ, কিন্তু যদি লবণের স্বাদ নষ্ট হয়ে যায় তবে কেমন করে তা আবার নোন্তা করা যাবে? সেই লবণ আর কোন কাজে লাগে না। তা কেবল বাইরে ফেলে দেবার ও লোকের পায়ে মাড়াবার উপযুক্ত হয়।
“তোমরা দুনিয়ার আলো। পাহাড়ের উপরের শহর লুকানো থাকতে পারে না।কেউ বাতি জ্বেলে ঝুড়ির নীচে রাখে না কিন্তু বাতিদানের উপরেই রাখে। এতে ঘরের সমস্ত লোকই আলো পায়।সেইভাবে তোমাদের আলো লোকদের সামনে জ্বলুক, যেন তারা তোমাদের ভাল কাজ দেখে তোমাদের বেহেশতী পিতার প্রশংসা করে।
তৌরাত শরীফের বিষয়ে হযরত ঈসার শিক্ষা
“এই কথা মনে কোরো না, আমি তৌরাত কিতাব আর নবীদের কিতাব বাতিল করতে এসেছি। আমি সেগুলো বাতিল করতে আসি নি বরং পূর্ণ করতে এসেছি।আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, আসমান ও জমীন শেষ না হওয়া পর্যন্ত, যতদিন না তৌরাত কিতাবের সমস্ত কথা সফল হয় ততদিন সেই তৌরাতের এক বিন্দু কি এক মাত্রা মুছে যাবে না।তাই মূসার শরীয়তের মধ্যে ছোট একটা হুকুমও যে কেউ অমান্য করে এবং লোককে তা অমান্য করতে শিক্ষা দেয় তাকে বেহেশতী রাজ্যে সবচেয়ে ছোট বলা হবে। কিন্তু যে কেউ শরীয়তের হুকুমগুলো পালন করে ও শিক্ষা দেয় তাকে বেহেশতী রাজ্যে বড় বলা হবে।আমি তোমাদের বলছি, আলেম ও ফরীশীদের ধার্মিকতার চেয়ে তোমাদের যদি বেশী কিছু না থাকে তবে তোমরা কোনমতেই বেহেশতী রাজ্যে ঢুকতে পারবে না।
রাগের বিষয়ে শিক্ষা
“তোমরা শুনেছ, আগেকার লোকদের কাছে এই কথা বলা হয়েছে, ‘খুন কোরো না; যে খুন করে সে বিচারের দায়ে পড়বে।’কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, যে কেউ তার ভাইয়ের উপর রাগ করে সে বিচারের দায়ে পড়বে। যে কেউ তার ভাইকে বলে, ‘তুমি অপদার্থ,’ সে মহাসভার বিচারের দায়ে পড়বে। আর যে তার ভাইকে বলে, ‘তুমি বিবেকহীন,’ সে জাহান্নামের আগুনের দায়ে পড়বে।
“সেইজন্য আল্লাহ্র উদ্দেশে কোরবানগাহের উপরে তোমার দান কোরবানী দেবার সময় যদি মনে পড়ে যে, তোমার বিরুদ্ধে তোমার ভাইয়ের কিছু বলবার আছে,তবে তোমার দান সেই কোরবানগাহের সামনে রেখে চলে যাও। আগে তোমার ভাইয়ের সংগে আবার মিলিত হও এবং পরে এসে তোমার দান কোরবানী দাও।
“কেউ তোমার বিরুদ্ধে মকদ্দমা করলে আদালতে যাবার আগেই তার সংগে তাড়াতাড়ি মীমাংসা করে ফেল। তা না হলে সে তোমাকে বিচারকের হাতে দেবে, আর বিচারক তোমাকে পুলিশের হাতে দেবে, আর পুলিশ তোমাকে জেলে দেবে।আমি তোমাকে সত্যি বলছি, শেষ পয়সাটা না দেওয়া পর্যন্ত তুমি সেখান থেকে কিছুতেই ছাড়া পাবে না।
জেনার বিষয়ে শিক্ষা
“তোমরা শুনেছ, এই কথা বলা হয়েছে, ‘জেনা কোরো না।’কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, যে কেউ কোন স্ত্রীলোকের দিকে কামনার চোখে তাকায় সে তখনই মনে মনে তার সংগে জেনা করল।”
“তোমার ডান চোখ যদি তোমাকে গুনাহের পথে টানে তবে তা উপ্ড়ে দূরে ফেলে দাও। তোমার সমস্ত শরীর জাহান্নামে যাওয়ার চেয়ে বরং তার একটা অংশ নষ্ট হওয়া তোমার পক্ষে ভাল।যদি তোমার ডান হাত তোমাকে গুনাহের পথে টানে তবে তা কেটে ফেলে দাও। তোমার সমস্ত শরীর জাহান্নামে যাওয়ার চেয়ে বরং একটা অংশ নষ্ট হওয়া তোমার পক্ষে ভাল।
“আবার বলা হয়েছে, ‘যে কেউ তার স্ত্রীকে তালাক দেয় সে তাকে তালাক-নামা দিক।’কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, যে কেউ জেনার দোষ ছাড়া অন্য কোন কারণে স্ত্রীকে তালাক দেয় সে তাকে জেনাকারিনী করে তোলে। আর যাকে তালাক দেওয়া হয়েছে সেই স্ত্রীকে যে বিয়ে করে সেও জেনা করে।
কসমের বিষয়ে শিক্ষা
“আবার তোমরা শুনেছ, আগেকার লোকদের কাছে বলা হয়েছে, ‘মিথ্যা কসম খেয়ো না, বরং মাবুদের উদ্দেশে তোমার সমস্ত কসম পালন কোরো।’কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, একেবারেই কসম খেয়ো না। বেহেশতের নামে খেয়ো না, কারণ তা আল্লাহ্র সিংহাসন।দুনিয়ার নামে খেয়ো না, কারণ তা তাঁর পা রাখবার জায়গা। জেরুজালেমের নামে খেয়ো না, কারণ তা মহান বাদশাহ্র শহর।তোমার মাথার নামে খেয়ো না, কারণ তার একটা চুল সাদা কি কালো করবার ক্ষমতা তোমার নেই।তোমাদের কথার ‘হ্যাঁ’ যেন ‘হ্যাঁ’ আর ‘না’ যেন ‘না’ হয়; এর বেশী যা, তা ইবলিসের কাছ থেকে আসে।
প্রতিশোধের বিষয়ে শিক্ষা
“তোমরা শুনেছ, বলা হয়েছে, ‘চোখের বদলে চোখ এবং দাঁতের বদলে দাঁত।’কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, তোমাদের সংগে যে কেউ খারাপ ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে কিছুই কোরো না; বরং যে কেউ তোমার ডান গালে চড় মারে তাকে অন্য গালেও চড় মারতে দিয়ো।যে কেউ তোমার কোর্তা নেবার জন্য মামলা করতে চায় তাকে তোমার চাদরও নিতে দিয়ো।যে কেউ তোমাকে তার বোঝা নিয়ে এক মাইল যেতে বাধ্য করে তার সংগে দুই মাইল যেয়ো।যে তোমার কাছে কিছু চায় তাকে দিয়ো, আর যে তোমার কাছে ধার চায় তাকে দিতে অস্বীকার কোরো না।
শত্রুকে মহব্বত করবার বিষয়ে শিক্ষা
“তোমরা শুনেছ, বলা হয়েছে, ‘তোমার প্রতিবেশীকে মহব্বত কোরো এবং শত্রুকে ঘৃণা কোরো।’কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, তোমাদের শত্রুদেরও মহব্বত কোরো। যারা তোমাদের জুলুম করে তাদের জন্য মুনাজাত কোরো,যেন লোকে দেখতে পায় তোমরা সত্যিই তোমাদের বেহেশতী পিতার সন্তান। তিনি তো ভাল-মন্দ সকলের উপরে তাঁর সূর্য উঠান এবং সৎ ও অসৎ লোকদের উপরে বৃষ্টি দেন।যারা তোমাদের মহব্বত করে কেবল তাদেরই যদি তোমরা মহব্বত কর তবে তোমরা কি পুরস্কার পাবে? খাজনা-আদায়কারীরাও কি তা-ই করে না?আর যদি তোমরা কেবল তোমাদের নিজেদের লোকদেরই সালাম জানাও তবে অন্যদের চেয়ে বেশী আর কি করছ? অ-ইহুদীরাও কি তা-ই করে না?এইজন্য বলি, তোমাদের বেহেশতী পিতা যেমন খাঁটি তোমরাও তেমনি খাঁটি হও।
দানের বিষয়ে শিক্ষা
“সাবধান, লোককে দেখাবার জন্য ধর্মকর্ম কোরো না; যদি কর তবে তোমাদের বেহেশতী পিতার কাছ থেকে কোন পুরস্কার পাবে না।
“এইজন্য যখন তুমি গরীবদের কিছু দাও তখন ভণ্ডদের মত কোরো না। তারা তো লোকদের প্রশংসা পাবার জন্য মজলিস-খানায় এবং পথে পথে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে ভিক্ষা দেয়। আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, তারা তাদের পুরস্কার পেয়ে গেছে।কিন্তু তুমি যখন গরীবদের কিছু দাও তখন তোমার ডান হাত কি করছে তা তোমার বাঁ হাতকে জানতে দিয়ো না,যেন তোমার দান করা গোপনে হয়। তাহলে তোমার পিতা, যিনি গোপনে সব কিছু দেখেন, তিনিই তোমাকে পুরস্কার দেবেন।
মুনাজাতের বিষয়ে শিক্ষা
“তোমরা যখন মুনাজাত কর তখন ভণ্ডদের মত কোরো না, কারণ তারা লোকদের কাছে নিজেদের দেখাবার জন্য মজলিস-খানায় ও রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে মুনাজাত করতে ভালবাসে। আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, তারা তাদের পুরস্কার পেয়ে গেছে।কিন্তু তুমি যখন মুনাজাত কর তখন ভিতরের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ কোরো এবং তোমার পিতা, যাঁকে দেখা না গেলেও উপস্থিত আছেন, তাঁর কাছে মুনাজাত কোরো। তোমার পিতা, যিনি গোপন সব কিছু দেখেন, তিনিই তোমাকে পুরস্কার দেবেন।
“যখন তোমরা মুনাজাত কর তখন অ-ইহুদীদের মত অর্থহীন কথা বার বার বোলো না। অ-ইহুদীরা মনে করে, বেশী কথা বললেই আল্লাহ্ তাদের মুনাজাত শুনবেন।তাদের মত কোরো না, কারণ তোমাদের পিতার কাছে চাইবার আগেই তিনি জানেন তোমাদের কি দরকার।এইজন্য তোমরা এইভাবে মুনাজাত কোরো:
হে আমাদের বেহেশতী পিতা,
তোমার নাম পবিত্র বলে মান্য হোক।
তোমার রাজ্য আসুক।
তোমার ইচ্ছা যেমন বেহেশতে
তেমনি দুনিয়াতেও পূর্ণ হোক।
যে খাবার আমাদের দরকার
তা আজ আমাদের দাও।
যারা আমাদের উপর অন্যায় করে,
আমরা যেমন তাদের মাফ করেছি
তেমনি তুমিও আমাদের সমস্ত অন্যায় মাফ কর।
আমাদের তুমি পরীক্ষায় পড়তে দিয়ো না,
বরং শয়তানের হাত থেকে রক্ষা কর।
তোমরা যদি অন্যদের দোষ মাফ কর তবে তোমাদের বেহেশতী পিতা তোমাদেরও মাফ করবেন।
কিন্তু তোমরা যদি অন্যদের দোষ মাফ না কর তবে তোমাদের পিতা তোমাদেরও মাফ করবেন না।
রোজার বিষয়ে শিক্ষা
“তোমরা যখন রোজা রাখ তখন ভণ্ডদের মত মুখ কালো করে রেখো না। তারা যে রোজা রাখছে তা লোকদের দেখাবার জন্য তারা মাথায় ও মুখে ছাই মেখে বেড়ায়। আমি তোমাদের সত্যিই বলছি, তারা তাদের পুরস্কার পেয়ে গেছে।কিন্তু তুমি যখন রোজা রাখ তখন মাথায় তেল দিয়ো ও মুখ ধুয়ো,যেন অন্যেরা জানতে না পারে যে, তুমি রোজা রাখছ। তাহলে তোমার পিতা, যিনি দেখা না গেলেও উপস্থিত আছেন, কেবল তিনিই তা দেখতে পাবেন। তোমার পিতা, যিনি গোপন সব কিছু দেখেন, তিনিই তোমাকে পুরস্কার দেবেন।
জীবনের সবচেয়ে দরকারী বিষয়ে শিক্ষা
“এই দুনিয়াতে তোমরা নিজেদের জন্য ধন-সম্পদ জমা কোরো না। এখানে মরচে ধরে ও পোকায় নষ্ট করে এবং চোর সিঁদ কেটে চুরি করে।কিন্তু বেহেশতে মরচেও ধরে না, পোকায় নষ্টও করে না এবং চোর সিঁদ কেটে চুরিও করে না। তাই বেহেশতে নিজেদের জন্য ধন জমা কর,কারণ তোমার ধন যেখানে থাকবে তোমার মনও সেখানে থাকবে।
“চোখ শরীরের বাতি। সেইজন্য তোমার চোখ যদি ভাল হয় তবে তোমার সমস্ত শরীরই আলোতে পূর্ণ হবে।কিন্তু তোমার চোখ যদি খারাপ হয় তবে তোমার সমস্ত শরীর অন্ধকারে পূর্ণ হবে। তোমার মধ্যে যে আলো আছে তা যদি আসলে অন্ধকারই হয় তবে সেই অন্ধকার কি ভীষণ!
“কেউই দুই কর্তার সেবা করতে পারে না, কারণ সে একজনকে ঘৃণা করবে ও অন্যজনকে ভালবাসবে। সে একজনের উপরে মনোযোগ দেবে ও অন্যজনকে তুচ্ছ করবে। আল্লাহ্ এবং ধন-সম্পত্তি এই দু’য়ের সেবা তোমরা একসংগে করতে পার না।
“এইজন্য আমি তোমাদের বলছি, কি খাবে বলে বেঁচে থাকবার বিষয়ে কিংবা কি পরবে বলে শরীরের বিষয়ে চিন্তা কোরো না। প্রাণটা কেবল খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপার নয়, আর শরীরটা কেবল কাপড়-চোপড়ের ব্যাপার নয়।
“আকাশের পাখীদের দিকে তাকিয়ে দেখ; তারা বীজ বোনে না, কাটেও না, গোলাঘরে জমাও করে না, আর তবুও তোমাদের বেহেশতী পিতা তাদের খাইয়ে থাকেন। তোমরা কি তাদের থেকে আরও মূল্যবান নও?তোমাদের মধ্যে কে চিন্তা-ভাবনা করে নিজের আয়ু এক ঘণ্টা বাড়াতে পারে?
“কাপড়-চোপড়ের জন্য কেন চিন্তা কর? মাঠের ফুলগুলোর কথা ভেবে দেখ সেগুলো কেমন করে বেড়ে ওঠে। তারা পরিশ্রম করে না, সুতাও কাটে না।কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, বাদশাহ্ সোলায়মান এত জাঁকজমকের মধ্যে থেকেও এগুলোর একটারও মত তিনি নিজেকে সাজাতে পারেন নি।মাঠের যে ঘাস আজ আছে আর কাল চুলায় ফেলে দেওয়া হবে, তা যখন আল্লাহ্ এইভাবে সাজান তখন ওহে অল্প বিশ্বাসীরা, তিনি যে তোমাদের নিশ্চয়ই সাজাবেন তাতে কোন সন্দেহ নেই।এইজন্য ‘কি খাব’ বা ‘কি পরব’ বলে চিন্তা কোরো না। অ-ইহুদীরাই এই সব বিষয়ের জন্য ব্যস্ত হয়;তা ছাড়া তোমাদের বেহেশতী পিতা তো জানেন যে, এই সব জিনিস তোমাদের দরকার আছে।কিন্তু তোমরা প্রথমে আল্লাহ্র রাজ্যের বিষয়ে ও তাঁর ইচ্ছামত চলবার জন্য ব্যস্ত হও। তাহলে ঐ সব জিনিসও তোমরা পাবে। কালকের বিষয় চিন্তা কোরো না;কালকের চিন্তা কালকের উপর ছেড়ে দাও। দিনের কষ্ট দিনের জন্য যথেষ্ট।
দোষ ধরবার বিষয়ে শিক্ষা
“তোমরা অন্যের দোষ ধরে বেড়িয়ো না যেন তোমাদেরও দোষ ধরা না হয়,কারণ যেভাবে তোমরা অন্যের দোষ ধর সেইভাবে তোমাদেরও দোষ ধরা হবে, আর যেভাবে তোমরা মেপে দাও সেইভাবে তোমাদের জন্যও মাপা হবে।
“তোমার ভাইয়ের চোখে যে কুটা আছে কেবল তা-ই দেখছ, অথচ তোমার নিজের চোখের মধ্যে যে কড়িকাঠ আছে তা লক্ষ্য করছ না কেন?যখন তোমার নিজের চোখেই কড়িকাঠ রয়েছে তখন কি করে তোমার ভাইকে এই কথা বলছ, ‘এস, তোমার চোখ থেকে কুটাটা বের করে দিই’?ভণ্ড! প্রথমে তোমার নিজের চোখ থেকে কড়িকাঠটা বের করে ফেল, তাতে তোমার ভাইয়ের চোখ থেকে কুটাটা বের করবার জন্য স্পষ্ট দেখতে পাবে।
“যা পবিত্র তা কুকুরকে দিয়ো না। শূকরের সামনে তোমাদের মুক্তা ছড়ায়ো না। হয়তো তারা সেগুলো তাদের পায়ের তলায় মাড়াবে এবং ফিরে তোমাদের টুকরা টুকরা করে ছিঁড়ে ফেলবে।
মুনাজাতের বিষয়ে ওয়াদা
“চাও, তোমাদের দেওয়া হবে; খোঁজ কর, পাবে; দরজায় আঘাত দাও, তোমাদের জন্য খোলা হবে।যারা চায় তারা প্রত্যেকে পায়; যে খোঁজ করে সে পায়; আর যে দরজায় আঘাত দেয় তার জন্য দরজা খোলা হয়।তোমাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে যে, তার ছেলে রুটি চাইলে তাকে পাথর দেবে?কিংবা মাছ চাইলে সাপ দেবে?তোমরা খারাপ হয়েও যদি নিজেদের ছেলেমেয়েদের ভাল ভাল জিনিস দিতে জান, তবে যারা তোমাদের বেহেশতী পিতার কাছে চায় তিনি যে তাদের ভাল ভাল জিনিস দেবেন এটা কত না নিশ্চয়!তোমরা অন্য লোকদের কাছ থেকে যে রকম ব্যবহার পেতে চাও তোমরাও তাদের সংগে সেই রকম ব্যবহার কোরো। এটাই হল তৌরাত কিতাব ও নবীদের কিতাবের শিক্ষার মূল কথা।
সরু ও চওড়া দরজা
“সরু দরজা দিয়ে ঢোকো, কারণ যে পথ ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায় তার দরজাও বড় এবং রাস্তাও চওড়া। অনেকেই তার মধ্য দিয়ে ঢোকে।কিন্তু যে পথ জীবনের দিকে নিয়ে যায় তার দরজাও সরু, পথও সরু। খুব কম লোকই তা খুঁজে পায়।
ভণ্ড নবীদের চিনবার উপায়
“ভণ্ড নবীদের বিষয়ে সাবধান হও। তারা তোমাদের কাছে ভেড়ার চেহারায় আসে, অথচ ভিতরে তারা রাক্ষুসে নেকড়ে বাঘের মত।তাদের জীবনে যে ফল দেখা যায় তা দিয়েই তোমরা তাদের চিনতে পারবে। কাঁটাঝোপে কি আংগুর ফল কিংবা শিয়ালকাঁটায় কি ডুমুর ফল ধরে?ঠিক সেইভাবে প্রত্যেক ভাল গাছে ভাল ফলই ধরে আর খারাপ গাছে খারাপ ফলই ধরে।ভাল গাছে খারাপ ফল এবং খারাপ গাছে ভাল ফল ধরতে পারে না।যে গাছে ভাল ফল ধরে না তা কেটে আগুনে ফেলে দেওয়া হয়।এইজন্য বলি, ভণ্ড নবীদের জীবনে যে ফল দেখা যায় তা দিয়েই তোমরা তাদের চিনতে পারবে।
বেহেশতী রাজ্যে কে ঢুকতে পারবে?
“যারা আমাকে ‘প্রভু, প্রভু’ বলে তারা প্রত্যেকে যে বেহেশতী রাজ্যে ঢুকতে পারবে তা নয়, কিন্তু আমার বেহেশতী পিতার ইচ্ছা যে পালন করে সে-ই ঢুকতে পারবে।সেই দিন অনেকে আমাকে বলবে, ‘প্রভু, প্রভু, তোমার নামে কি আমরা নবী হিসাবে কথা বলি নি? তোমার নামে কি ভূত ছাড়াই নি? তোমার নামে কি অনেক অলৌকিক চিহ্ন-কাজ করি নি?’তখন আমি সোজাসুজিই তাদের বলব, ‘আমি তোমাদের চিনি না। দুষ্টের দল! আমার কাছ থেকে তোমরা দূর হও।’
দুই রকম লোক
“সেইজন্য বলি, যে কেউ আমার এই সমস্ত কথা শুনে তা পালন করে সে এমন একজন বুদ্ধিমান লোকের মত, যে পাথরের উপরে তার ঘর তৈরী করল।পরে বৃষ্টি নামল, বন্যা আসল, ঝড় বইল এবং সেই ঘরের উপরে আঘাত করল; কিন্তু সেই ঘরটা পড়ল না কারণ তা পাথরের উপরে তৈরী করা হয়েছিল।যে কেউ আমার এই সমস্ত কথা শুনে তা পালন না করে সে এমন একজন মূর্খ লোকের মত, যে বালির উপরে তার ঘর তৈরী করল।পরে বৃষ্টি নামল, বন্যা আসল, ঝড় বইল এবং সেই ঘরের উপরে আঘাত করল; তাতে ঘরটা পড়ে গেল। কি ভীষণ ভাবেই না সেই ঘরটা পড়ে গেল!”
ঈসা যখন কথা বলা শেষ করলেন তখন লোকেরা তাঁর শিক্ষায় আশ্চর্য হয়ে গেল,কারণ তিনি আলেমদের মত শিক্ষা দিচ্ছিলেন না, বরং যাঁর অধিকার আছে সেই রকম লোকের মতই শিক্ষা দিচ্ছিলেন।
1
প্রতিটি মানুষের কাছে তার অনেক কর্ম সঠিক বলে মনে হয়।তাই বোধের বিকাশ আগে প্রয়োজন।